কার্ডে লেনদেন বেড়েছে ১২ শতাংশ
এক মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বর মাসে ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এটিএম, পস, সিআরএম ও ই-কমার্সে ট্রানজেকশনে লেনদেন হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। যা তার আগের মাস আগস্টে ছিল ৩৪ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৪ হাজার ১১৭ কোটি টাকা বা ১২ শতাংশ।
এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে লেনদেনের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭০টি। তার আগের মাসে লেনদেন হয়েছিল ৩ কোটি ৯০ লাখ ১৫ হাজার ৫৬৫টি। লেনদেন বেড়েছে ৬৬ লাখ ৯৪ হাজার ১০৫টি।
দেশের আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন বাসানো হয়েছে এটিএম বুথ। বর্তমানে সারা দেশে এটিএম বুথের সংখ্যা রয়েছে ১৩ হাজার ১৬টি। দিন দিন এর সংখ্যা বেড়েই চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, সেপ্টেম্বরে এটিএম বুথে লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৭১ লাখ ৮৮ হাজার ১৩টি, যা আগস্টে ছিল ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৭৬টি। লেনদেন বেশি হয়েছে ২৭ লাখ ১৯ হাজার ১৩৭টি। সেপ্টেম্বরে লেনদেনকৃত টাকার পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা, আগস্টে যা ছিল ১৮ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে এটিএম বুথে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।
দিন যতই যাচ্ছে জনপ্রিয় হচ্ছে ক্যাশলেস লেনদেন। মানুষ এখন নগদ টাকার থেকে কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। তাই তো বিভিন্ন দোকান, সুপারশপ, বিপণিবিতানে বাড়ছে পস লেনদেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন দোকান, বিপণিবিতানে পস মেশিনের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৬৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩০টি, লেনদেনকৃত টাকার পরিমাণ ২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। তার আগের মাস মার্চে লেনদেনের সংখ্যা ছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৮০০টি, লেনদেনকৃত টাকার পরিমাণ ২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ট্রানজেকশন বেশি হয়েছে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩০টি। লেনদেনকৃত টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৩৮৫ কোটি টাকা।
এদিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ই-কমার্স। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই কেনাকাটা করতে পারছে ক্রেতারা। যার ফলে দিন দিন বাড়ছে ই-কমার্স লেনদেনও। গত সেপ্টেম্বর মাসে ই-কমার্সের মাধ্যমে ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯২১টি লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে লেনদেনকৃত টাকার পরিমাণ ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। তার আগের মাসে এই খাতে লেনদেন ছিল ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ২২৯টি। লেনদেনকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২ হাজার ১ কোটি টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯২টি। আর লেনদেনকৃত অর্থ বেড়েছে ১৬৭ কোটি টাকা।
এ ছাড়া দিন দিন বাড়ছে সিআরএমে লেনদেনও। বর্তমানে অনেক ব্যাংকের শাখা ৫০ হাজার টাকার কম হলে সরাসরি জমা না নিয়ে সিআরএমে দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। যদিও সিআরএমে টাকা জমা দিতে গিয়ে নেটওয়ার্কের ভোগান্তি, ছেঁড়া টাকা জটিলতাসহ বেশ কিছু ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রাহকদের। তারপরও দিন দিন তথ্য-প্রযুক্তি আপডেট করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। গত সেপ্টেম্বরে সিআরএমে লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫০৬টি। টাকার পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। তার আগের মাসে লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪৬ হাজার ৭৬০টি। টাকার পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে ট্রানজেকশন বেড়েছে ২৬ লাখ ২৯ হাজার ৭৪৬টি। লেনদেনকৃত টাকার পরিমাণ বেড়েছে ২ হাজার ৪৪ কোটি টাকা।
এদিকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল লেনদেনের সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকিও। বিভিন্ন কৌশলে সক্রিয় হচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। সম্প্রতি সাইবার হামলা প্রসঙ্গে সতর্কতামূলক একটি নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় এসব সাইবার অপরাধী প্রতিনিয়ত দেশের ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের হয়রানি করছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী সাইবার আক্রমণের প্রবণতা বেড়েই চলছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতেও সাইবার আক্রমণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ম্যালওয়ার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্ভাব্য ডেটা লঙ্ঘন বা র্যানসমওয়্যার আক্রমণের ক্ষেত্রে অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে বলা হয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিসহ সিভিভি যাচাই করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনের জন্য ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবহার করতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এ ছাড়া ভুয়া কিউআর কোড সম্পর্কে ব্যাংক কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যেকোনো আর্থিক লেনদেনের জন্য টুএফএ/এমএফএ ব্যবহার করুন। অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করতে এআই এবং মেশিন লার্নিং (যদি সম্ভব হয়) ব্যবহার করুন। বেশিসংখ্যক অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যে নজর রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিনিময় করা বিন ডেটার পরিমাণ সীমিত করা এবং অননুমোদিত অ্যাকসেস এড়াতে এটি নিরাপদ করতে বলা হয়। একই সঙ্গে কীভাবে সম্ভাব্য বিন শনাক্ত করতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে হয় সে সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







